বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে শুধু ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ নয়, বরং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো পূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতায় নিয়োজিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দ্রুতই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
ইসি সূত্র জানায়, এ সংশোধনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত এ তালিকায় শুধু পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড ছিল। ফলে নির্বাচনী দায়িত্বে সেনাবাহিনী স্বাধীনভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে হবে না।
ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন,
“আমরা আরপিও সংশোধন করে সেখানে ল’ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি হিসাবে সেনাবাহিনীকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি। আগে এ সুযোগ ছিল না। এখন থেকে সেনাবাহিনী নির্বাচনী দায়িত্বে পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারবে।”
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
“আমাদের পক্ষ থেকে খসড়া এই সপ্তাহেই পাঠানো হবে। এরপর সরকার নিজেরা পর্যালোচনা করবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে কতদূর এটি বাস্তবায়ন করা যায়।”
সব ধরনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী
প্রায় ১৬ বছর আগে আরপিও সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা থেকে সেনাবাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, পুনরায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করলে ভোটারদের আস্থা ফিরবে এবং নির্বাচনকে আরও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নয়, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগুলোতেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তুর্ভুক্ত করা হবে৷