আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচনঃ সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোট ৫ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো একদিন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি।

নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়ে নির্দেশনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের অপেক্ষায় রয়েছে ইসি। ভাষণটি ৫ বা ৮ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া হতে পারে, যেখানে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসির লক্ষ্য এবার সর্বাধিক রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। সেই বিবেচনায় ভোটের দিন বৃহস্পতিবার নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যেন ভোটের পরপরই অন্তত দুইদিনের ছুটি পাওয়া যায়।

নির্বাচনী প্রস্তুতির অগ্রগতিঃ

  • আসন পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রকাশিত, ৩৯ আসনের সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব।
  • আপিল গ্রহণ চলছে ১০ আগস্ট পর্যন্ত, এরপর চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ।
  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ হবে ১০ আগস্ট।
  • নির্বাচনী সামগ্রী, প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষক নিবন্ধন, ও নতুন দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান।
  • ভোটার তালিকা সংশোধনের সুযোগ থাকবে ১২ দিন।
  • ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে ৪৬ হাজার, এবং ৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাঃ
নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আব্দুল আলীম মনে করেন, “সরকারি নির্দেশনা না থাকলেও ইসি যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। যথাসময়ে নির্বাচন হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচিত সরকারের জন্য দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোট আয়োজনের জন্য জনগণের চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও জোরালো দাবি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *