গোপালগঞ্জে এ ন সি পি র একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ছা ত্র লী গ ও আ ও য়া মী লী গে র সন্ত্রাসীদের ব্যাপক সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এখন সারাদেশের মানুষের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ ন সি পি র নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও নজিরবিহীন সহিংসতার টার্গেটে পরিণত করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার কিছু লাইভ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সেনা সদস্যদের টার্গেট করে সঙ্গবদ্ধভাবে ব্যাপক হামলা চালাতে দেখা গেছে। ঘোর সঙ্কটে জনগণের পাশে সাহস ও শক্তির প্রতীক হিসেবে সর্বদা ভূমিকা রাখা সেনাবাহিনীকে আ ও য়া মী সন্ত্রাসীরা বারবার টার্গেট করায় চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশপ্রেমিক জনতা।
গোপালগঞ্জে বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে সুসংঘটিত হয়ে এমন ভাবে হামলা চালানো হয় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এর আগেও সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে একাধিকবার নজিরবিহীনভাবে হামলা চালায় ছা ত্র লী গ ও আ ও য়া মী লী গে র সন্ত্রাসীরা। ভিডিও ফুটেজ দেখে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর উপর হামলায় জড়িত আ ও য়া মী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সেনা আইনে তাদের শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
সন্ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তোলা এই গোপালগঞ্জে গত বছরের ১০ আগস্ট সেনাসদস্যের ওপর হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্ট পাশের দেশে পালিয়ে যাওয়া গণ হ ত্যা কা রী শে খ হা সি না কে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এদিন ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর বাসস্ট্যান্ডে দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে আ ও য়া মী লী গে র নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। একপর্যায়ে তারা সেনাসদস্যদের ওপর হামলা করে। এতে সেনাবাহিনীর ৪ কর্মকর্তাসহ ৯ জন আহত হন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর দুটি রাইফেল, ছয়টি ম্যাগাজিন ছিনিয়ে নিয়ে একটি গাড়িতে আগুন ও দুটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে গোপালগঞ্জের বুধবারের ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলায় একটি দ লে র জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃংখল জনতা সংঘবদ্ধভাবে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। এছাড়াও, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি যানবাহনে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সমাবেশ চলাকালে মঞ্চে আবার হা ম লা চালানো হয় এবং একইসঙ্গে জেলা কারাগারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ অবস্থায়, সেনাবাহিনী হামলাকারীদের মাইকে বারংবার ঘোষনা দিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তারা সেনাবাহিনীর ওপর বিপুল সংখ্যক ককটেল ও ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা করে এবং একপর্যায়ে সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়।
সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অত্যন্ত পেশাদারত্ব ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হাওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে সেনাবাহিনী। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর উপর বহুবার সহিংস হামলা চালানোর রেকর্ড কেবল আ ও য়া মী সন্ত্রাসীদেরই রয়েছে। গত বছর ছাত্রজনতার গতঅভ্যুত্থানে দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন থাকলেও আন্দোলনকারীদের কোথাও তাদের উপর চড়াও হতে দেখা যায়নি। দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে যেকোনো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সবসময় শ্রদ্ধা, সম্মান ও আস্থার জায়গায় রাখতে দেখা গেছে দেশবাসীকে। দেশের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর উপর আ ও য়া মী লী গে র এত আক্রোশ কেন?- তা নিয়ে সবসময়ই সমালোচনা হয়ে আসছে। ৫ আগস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সেনাবাহিনীকে আবারো টার্গেট করায় ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে।
জুলাই অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞর হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। শে খ হা সি না র দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর কিছু মহল থেকে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ মঙ্গলের কথা চিন্তা করে এতে সাড়া দেননি সেনাপ্রধান। বরং তিনি দেশকে দ্রুত সুশৃংখল ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে তৎপর রয়েছেন। এখনো তিনি মনে করেন একটি নির্বাচিত সরকার দ্রুত ক্ষমতা গ্রহণ করলে দেশের পরিস্থিতি ব্যাপক উন্নতি হবে। তার এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের সাধারণ জনতা।
এর আগে ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সেনা সদস্যের হাতে একজন ছাত্র লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন এক ছা ত্র লী গ নেতাকে সেনা সদস্যকে তেড়ে গিয়ে লাথি মারতে দেখা যায়। এই দৃশ্য তখন ভাইরাল হয়।
এদিকে, নেটিজেনরা গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর উপর হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। সেনা সদস্যদের উপর হাত তোলার দুঃসাহস দেখানোর জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফেসবুকে ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান লিখেছেন, ভিডিও দেখে নিষিদ্ধ ছা ত্র লী গে র সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার রয়েছে। এই ক্ষমতা বলে সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সেনা আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আব্দুল মান্নান লিখেছেন, পাশের দেশের সেবাদাস দল আ ও য়া মী লী গ কখনোই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী ও মর্যাদাশীল অবস্থায় দেখতে পছন্দ করে না। কারণ তারা সেনাবাহিনী শক্তিশালী হলে দিল্লির অখুশি হওয়ার আশঙ্কা করে। এজন্য তারা সবসময় সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। ২৪ এর অভ্যুত্থানের পর দেশবিরোধী এই সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে নির্মূল করতে হবে।