জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপের বুক চিরে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

যখন চারদিকে শুধু ধোঁয়া, আগুন আর আতঙ্ক, মানুষ হারিয়ে ফেলেছে তাদের দিশা, আত্মীয় হারিয়েছে প্রিয়জন, তখনও কিছু মানুষ পিছু হটেনি। আগুনের লেলিহান শিখা, ভাঙা কাঁচ, পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া কাঠামোর মাঝেও যারা প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গেছে – তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

এই মুহূর্তটি ছিল একেবারে মৃত্যুর কাছাকাছি, যেখানে শোক আর হতাশা একসাথে ঘিরে ধরেছিল সবাইকে। কিন্তু এই ভয়াল সময়েও ফুটে উঠেছিল এক অনন্য মানবিকতা – শব্দহীন, নির্দেশনাবিহীন, কিন্তু বড্ড গভীর।

মৃত্যু আর হতাশার সেই ভয়াল মুহূর্তে মানবতার আরো উজ্জ্বল ছবিটা ফুটে উঠেছিল এক নিঃশব্দ কর্মে। দগ্ধ এক নারীর নিথর দেহ যখন পড়ে ছিল নিঃসহায়ভাবে, তখন নিজের শরীর থেকে পোশাক খুলে তা ঢেকে দেন এক সেনাসদস্য। যে পোশাক পরে দেশ বাচাতে লড়াই করে সেনারা, সেই পোশাক দিয়ে বাচাতে পারে একজন মৃত নারীর মানও। যে দৃশ্য শুধু চোখে পানি আনে না, বুক কাঁপায় শ্রদ্ধায়।

এই কাজ কোনো প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল থেকে আসেনি, এই নির্দেশ কোনো চেইন অব কমান্ড থেকে জারি হয়নি। এটি ছিল অন্তর থেকে উঠে আসা এক সাড়া – একজন মানুষের আরেকজন মানুষের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ার দৃঢ় সংকল্প।

যখন আগুনে পুড়ছিল চারপাশ, তখনো তারা পিছু হটেনি। ভেতরে ঢুকে পড়েছে সাহসিকতার সঙ্গে, উদ্ধার করেছে মৃতদেহ, কোলে তুলে নিয়েছে শিশুদের, আগুনের তাপে নিজেরাও দগ্ধ হয়েছে। তবুও একবারের জন্যও থেমে যায়নি তাদের সেবার মনোভাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *