পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে বেকারত্ব দূরীকরণের বিকল্প নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ও রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেছেন, এ অঞ্চলে কর্ণফুলী মিলসহ পুরনো কলকারখানা কিংবা নতুন করে কিছু শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে পারলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূর করা সম্ভভ হবে।
বর্তমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপগুলো সহজেই পাহাড়ি যুবকদের বিভ্রান্ত করে তাদের দলে ভেড়াচ্ছে। পাহাড়ি বেকার তরুণরাও ‘আদর্শগত’ভাবে নয় বরং কর্মসংস্থানের অভাবে এসব সশস্ত্র গ্রুপের একটা অংশ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রবিবার (২ মার্চ) রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় বিষয়টি নিয়ে তিনি সভায় উপস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের দৃষ্টি আকর্ষন করেন এবং পাহাড়ে বেকারত্ব দূরীকরণে পার্বত্য মন্ত্রনালয় উদ্যোগ নিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় রিজিয়ন কমান্ডার জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে সরকারের গৃহীত যেকোন পদক্ষেপের সর্বাত্নক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রস্তুত।
এসময় পাহাড়ের উন্নয়নে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের গৃহীত কার্যক্রমের সাথে সহায়তার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, রাঙামাটির প্রত্যন্ত এলাকায়ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্প রয়েছে, এছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মাঠে মোতায়েন রয়েছে।তিনি বলেন,
একটি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রাঙামাটির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সেনাবাহিনী সব জায়গায়, সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। এই সেনা কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির রাঙামাটি গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে, পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাদের এসব কাজ অব্যাহত থাকবে।
সভায় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কংকন চাকমা, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।